বাঁশ -বিরিয়ানির যতো কথা

বাঁশ-বিরিয়ানি নিয়ে যতো কথা
বলছি,বাঁশে তৈরি নানা খাবারের উৎপত্তির কথা। একসময় পাহাড়ের মানুষ যখন শিকারে যেতেন, তখন বেশ কদিন জঙ্গলে থাকতে হতো। শিকারে যাওয়ার সময় বেশি কিছু সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জঙ্গলের বাঁশ কেটে সঙ্গে থাকা চাল, ডাল তাতেই ফুটিয়ে নিয়ে খেতে হতো। সেখান থেকেই বাঁশ মুরগি ও বাঁশ বিরিয়ানির মতো খাবারের প্রচলন। এখন  ‘তবে সবাই কিন্তু ভালোভাবে এটা তৈরি করতে পারে না।’

গতবছর ডিসেম্বর মাসে গ্রামের  কয়েকজন ভাই-ব্রাদার
 মিলে ঘুরতে গিয়েছিলাম বান্দরবানের  পাহাড়ি কন্যাখ্যাত থানচি। রাতের বাসে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ভোরে পৌঁছাই বন্দরবান। সেখান থেকে স্থানীয় চাঁদের গাড়িতে চড়ে থানচি পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর ১২টা। বান্দরবান  থেকে থানচির এই যাত্রাপথ পুরোটাই উপভোগ্য। পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথের অনুভূতিটা ছিল অনেকটা রোলার কোস্টারে চড়ার মতো। তাই তো চিৎকার করে সবাই গেয়ে উঠলাম, ‘পাহাড়ের বাহারে বাহারে/ কত–কী যে সুখ আছে, আহা রে।’

পাহাড়ের ঢালে খুঁটি গেড়ে তৈরি করা থানচি অধিকাংশ বসতি  কাঠ ও বাঁশের। থানচি আধুনিক ভবনও চোখে পড়ল, আমরা সবাই আধুনিক তৈরি একটা হোটেল "হোটেল ডিসকভারি থানচি" নামক হোটেলে উঠেছিলাম।  হোটেল  ব্যাগ রেখে ছাদে উঠে  দাঁড়াতেই আমাদের  সব ক্লান্তি নিমেষেই শেষ! সামনের আদিগন্ত পাহাড় আর সবুজের মিতালিতে সবাই যেন সম্মোহিত হয়ে গেলাম।
হোটেলে আবার রেস্তোরাঁ আছে নাম টং মা হাং রেস্টুরেন্ট
এখানে পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় ধরনের খাবার পাওয়া যায় ।
দুপুরের খাবার এখানেই সেরে ফেললাম
আর রাতের জন্য অর্ডার দিলাম বাঁশ -বিরিয়ানি শুনেছি বাঁশ -বিরিয়ানি নাকি অনেক মজা,
বিকালে থানচির আশেপাশে ঘুরে দেখলাম।
সন্ধ্যায় নাস্তা করলাম ফেন্স ফ্রাই,চিকেন ফ্রাই ও চিকেন নুডলস সবাই হোটেলের রুমে গেলাম আগামীকাল সফরের জন্য পরামর্শ করার জন্য
রাতে এশার নামাজ শেষে রাতের খাবারে যে বাঁশ-বিরিয়ানি অর্ডার তা  খাবার টেবিলে আস্ত আস্ত বাঁশ  আগুনে পোড়ানো  বাঁশ বিরিয়ানি   সেটা আনা হলো খাওয়ার সময় আমাদের এক ছোট ভাই বললো, ‘এখানে সবাই টাকা খরচ করে হাসিমুখে বাঁশ খায়।’আমরা সবাই প্রথম বার বাঁশ -বিরিয়ানি খেলাম আলহামদুলিল্লাহ  এটার স্বাদটা ছিল এক কথায় অসাধারণ!
খাবার শেষে সবাই রুমে চলে গেলাম রাতে ঘুমিয়ে  পরলাম। 
ভোরে ঘুম থেকে উঠে সবাই চলে গেলাম তমাতুঙ্গী, মেঘ আর সূর্যোদয় দেখব বলে। হিম হিম ঠান্ডায় আমরা সবাই রীতিমতো কাঁপছি, এমন সময় দিগন্তে দেখা মিলল সূর্যের। রক্তিম আভায় চারদিক ভাসিয়ে উঁকি দিয়ে দেড় মিনিটের মধ্যেই পূর্ণ উদিত হলেন সূর্যদেব। মন্ত্রমুগ্ধের মতো
আমরা তাকিয়ে থাকি, ভুলে যাই হাড়কাঁপানো শীতের কথা। অনেকক্ষণ কেউ কোনো কথা
বলি না, অনুভূতিটা ঠিক বলে বোঝানো
যাবে না।
তমাতুঙ্গী থেকে ফিরে এসে সকালের নাস্তা করলাম টং মা হাং রেস্টুরেন্টের ডিম-খিচুড়ি দিয়ে,
নাস্তা শেষে আমরা চলে গেলাম নৌকায় করে রেমাক্রি এবং সেখানে পাহাড়,নদী ঝর্না দেখে দুপুরে হোটেলে এসে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বের হলাম বাড়ীর পথে।

যাঁরা ট্রেকিং ভালোবাসেন,তারা থানচি এসে একজন গাইডের সহায়তা নিয়ে যেতে পারেন বড় পাথর,রেমাক্রি,নাফাখুম,আলিয়াখুম,এবং থানচির বিভিন্ন পর্যটন স্পট।  যেখানে আপনি ও আপনার পরিবার নিরাপদে ভ্রমন করে উপভোগ করতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
আমাদের ভ্রমণ বিষয়ক সকল তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ "হোটেল ডিসকভারি থানচি"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে ব্রিজ

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকার উপায়

আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ